ছাত্রনেতা ওসমান গনির খোলা চিঠি রাজপথের সহযোদ্ধাদের উদ্দেশ্য।
নবী হোসেন (ইমরান)
কক্সবাজার
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কক্সবাজার জেলা ২০শে সেপ্টেম্বর- কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগে সম্মেলনকে ঘিরে কক্সবাজার জেলা ছাত্র নেতা সাবেক কক্সবাজার টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রলীগর সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান গনির খোলা চিঠি রাজপথের সহযোদ্ধাদের উদ্দেশ্য।
এবং তিনি নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন এবংজার্নাল ডটকম অনলাইন পত্রিকার কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি কে বিষয় টি জানান
তার ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করা চিঠি টি তুলে ধরা হলো।
খোলা চিঠি!
প্রিয়,
রাজপথের সহযোদ্ধাবৃন্দ।
আসসালামু আলাইকুম,দীর্ঘদিনের রাজপথে থাকা প্রিয় সহযোদ্ধাবৃন্দ,আশা রাখি সবাই ভালো আছেন,আল্লাহর রহমতে আমিও ভালো আছি।আমার রাজপথে থাকার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে,আপনাদের কিংবা তোমাদের জন্য, আজকে আমার এই খোলা চিঠি লেখা,আশা করছি সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়বেন,এবং বুঝার চেষ্টা করবেন। আপনি বা আপনারা যারা, কোন নেতা বা ভাইয়ের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য কিংবা খুব কাছের মানুষ হওয়ার জন্য লড়াই করো এবং কখনো কখনো জীবন বাজি রাখেন,আপনি বা আপনাদের অবশ্যই ভাবতে হবে যে, আপনাদের ঐ নেতা বা ভাইয়ের কতোটুকু দরকার। যদি বুঝতে পারেন আপনাকে বা আপনাদের তাঁর কতোটুকু দরকার তাহলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে নতুবা পরে কোন একসময় মনে হবে ভাইয়ের জন্য এতো কিছু করলাম, ভাই আমাকে দেখলো না। আসলে ভাই আপনাকে বা আপনাদের সেভাবে ভাবেই নি যেভাবে আপনি বা আপানারা তার কাছে প্রত্যাশা করেছেন অথবা ভাইয়ের অনেক গুলো অপশানের মধ্যে আপনি বা আপনারা একটা।
আজ এমন কোন জায়গা নাই যেখানে ভাইয়ের অনুসারীদের মধ্যে হাহাকার নাই!
মূলত, হাহাকার টা তাদেরই বেশি যারা ভাইয়ের প্রয়োজন টা বুঝতে পারেনি।
সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, আপনি কিংবা আপনাদের নিজেকে চিনতে হবে, জানতে হবে যে আপানকে দিয়ে কোনটা সম্ভব আর কোনটা সম্ভব না। যেটা সম্ভব না সেটার পিছু ছুটে লাভ নেই।
কারণ, প্রত্যেকেরই সময় কিন্তু খুব কম।আগামী ২০ই সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এইবারের সম্মেলনে অনেকে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করেছে।এবং অনলাইন নিউজ ও বিভিন্ন কর্মীদের স্ট্যাটাসে দেখা যাচ্ছে। যাদের মধ্যে অনেকেই মুক্তি যোদ্ধা পরিবারের সন্তান,আবার অনেকে বিভিন্ন সংগঠনের বড় বড় নেতাদের সন্তান।আবার অনেকে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করে বেড়ে উঠা কর্মী ।শুনেছি তাদের মধ্যে অনেকেই ঢাকায় কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে নিয়মিত লবিং করে যাচ্ছে। এবং এটাও শুনেছি অনেক প্রার্থী নাকি বিবাহিত, আবার অনেকে নাকি বিভিন্ন অনৈতিক কাজে লিপ্ত।এখন আমার কথা হচ্ছে, প্রিয় কর্মী ভাইদের প্রতি, আপনারা যারা বিভিন্ন ভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন,অমুক ভাইকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চাই, তমুক ভাইকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চাই, আপনারা কি জানেন?কিংবা সিউর হয়ে বলতে পারবেন?আপনারা যেসব ভাইদের হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন, তারা যদি নেতৃত্বে আসে,যারা ১/১১এর মতো সংগঠনের দুর্দিনে রাজপথের প্রতিটা আন্দোলন সংগ্রামে,সংগঠনের পাশে ছিল,যারা ততকালীন সরকারের,বর্তমান বিরোধী দলীয় সরকারের করা মামলার ঘানি এখনো টানছে সেই সব ত্যাগী কর্মী গুলো কতটুকু মূল্যায়ন হবে?আপনি বা আপনারা কি জানেন,আজ আপনার বা আপনাদের পছন্দের প্রার্থী যদি নির্বাচিত হয়,তাহলে পরবর্তী আপনি বা আপনারা কতটুকু মূল্যায়ন হবেন?আপনি,আপনারা এখনো নিশ্চিত না, তবে আমি বলছি,যদি আল্লাহর কসম রাজপথে থেকে উঠে আসা একজন ত্যাগী নেতা যদি নেতৃত্বে আসে।তাহলে প্রতিটা ত্যাগী কর্মীরা মূল্যায়ন হবে।এবং বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ হবে সুন্দর এবং সফল একটি ছাত্র সংগঠন। সুতরাং, আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন সাবেক কর্মী হিসেবে সকল কর্মী ভাইদের প্রতি অনুরোধ করবো,দয়াকরে আপনারা এমন দুই জন নেতৃত্বের জন্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিপ্লবী সভাপতি জনাব রেজোওয়ানোল হক চৌধুরী শোভন ভাই,ও সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ভাইয়ের প্রতি আবেদন করুন,যারা নেতৃত্বে আসলে আপনি এবং সংগঠনের দুর্দিনে রাজপথে থাকা কর্মীরা মূল্যায়ন হবে।যারা ছাত্র ছাত্রীদের অধিকার আদায়ের জন্য অক্লান্তভাবে কাজ করবে।যারা প্রতি মূহুর্তে কর্মীদের বিপদে আপদে পাশে থাকবে।যারা নেতৃত্বে আসলে ছাত্র জনতার মুখে হাসি ফুটবে।পরিশেষে আবারো বলছি,আপনারা পছন্দের ব্যাক্তি বিশেষের দিকে ঝাপিত না হয়ে,একজন সৎ আদর্শবান নেতা নেতৃত্বে আসুক, সেই দিকে লক্ষ্য রাখুন,এবং তার জন্য কাজ করুন।অতএব, আমার কথায় যদি কেউ কোনো প্রকার কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।
ইতিঃ
মোহাম্মদ ওসমান গনি হাসান।
সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক,
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ,কক্সবাজার টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ,
(ক্যাম্পাস) শাখা।(২০১৪)


0 coment rios: