Sunday, 8 September 2019

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলে স্থবিরতা


আব্দুল করিম চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ-

কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের দিকে চেয়ে আছেন ছাত্রদলের চট্টগ্রাম মহানগর নেতৃবৃন্দ। তাদের বিশ্বাস, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় কাউন্সিলের পর গঠন করা হবে নগর কমিটি। এর আগে ২০১৩ সালের ২১ জুলাই গঠন করা হয়েছিল ১১ সদস্যের নগর ছাত্রদল। গঠনতন্ত্র অনুুযায়ী, এ কমিটির মেয়াদ দুই বছর। অর্থাৎ চার বছর আগেই মেয়াদ শেষ হয়েছে তারও দুই বছর আগে গঠিত বর্তমান কমিটির।
জানা গেছে, বিগত সময়ে একাধিকবার নগর ছাত্রদলের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র র্শীষ নেতাদের আভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে তা সম্ভব হয়নি। যদিও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বতর্মান কমিটি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা এবং দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করেছিলেন।
এদিকে নগর ছাত্রদলের তৃণমূলের কর্মীরা জানিয়েছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং অপূর্ণাঙ্গের পাশাপাপাশি নগর ছাত্রদলের আরেকটি সমস্যা আছে। সেটা হল, নগর ছাত্রদলের ১১ সদস্যের নয়জনই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনে যোগ দিয়ে বিভিন্ন পদে আছেন। তাই তারা নগর ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেন না। এতে নগর ছাত্রদলের কার্যক্রমে একধরনের স্থবিরতা কাজ করছে।
বিষয়টি স্বীকার করে নগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু বলেন, ‘বলা যায়, একপ্রকার স্থবিরতা বিরাজ করছে নগর ছাত্রদলে। আসলে, আমি নিজেও স্বেচ্ছাসেবক দলে যোগ দিলাম। এরপর ওভাবে আর ছাত্রদলের কার্যক্রমে সম্পৃক্তও নই। তবে নগর ছাত্রদলের ব্যানারে কোন কর্মসূচি না হলেও বিচ্ছিন্নভাবে গ্রুপভিত্তিক কর্মকাণ্ড চলছে। নগর ছাত্রদলে বিদ্যমান স্থবিরতা কাটিয়ে উঠার জন্য প্রয়োজন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্যাগী ও বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন এমন কর্মীদের নিয়ে কমিটি করা। যেহেতু আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল, আশা করছি এরপর নগর কমিটিও গঠন করা হবে।
এদিকে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পর নগর কমিটি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তৃণমূলের কর্মীরা। নগর কমিটির কোন পদে না থাকলেও বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদলের ব্যানারে দলীয় কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে জসীম উদ্দিন হিমেলকে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের অনুসারি হিসেবে পরিচিত জসীম উদ্দিন হিমেল  বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কাউন্সিল’র দিকে চেয়ে আছি। আশা করছি, কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পরেই চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি গঠন করা হবে। কারণ, ইতোপূর্বে সারাদেশের দুয়েকটি ছাড়া বেশিরভাগ জেলা, উপজেলা এবং থানা কমিটি হয়ে গেছে। হাতেগোনা যে কয়েকটি কমিটি হয়নি তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং উল্লেখযোগ্য হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি। তাই কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পরপরই অগ্রাধিকার হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটিই গঠন করা হবে।
নগর কমিটির বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একজন ছাড়া বাকিরা বিভিন্ন কমিটিতে যোগ দিয়েছেন। তাদের কোন কর্মকাণ্ডও নেই।
পদে না থাকলেও বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদলের ব্যানারে কর্মসূচী পালন করে আসা আরেকটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন মো. সাইফুল আলম। মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের অনুসারী হিসেবে পরিচিত মো. সাইফুল আলম বলেন, নগরে ছাত্রদলের পদে যারা আছেন তাদের কোন অ্যাক্টিভিটিস নাই। ছাত্রদলকে গতিশীল করার জন্য প্রয়োজন দ্রুত কমিটি গঠন করা। এটা আটকে আছে কেন্দ্রীয় কমিটির কারণে। কাউন্সিলের মাধ্যমে সেন্ট্রাল কমিটি শীঘ্রই হতে যাচ্ছে। তাই আশা করছি, চট্টগ্রাম মহানগর কমিটিও হয়ে যাবে। যতটুকু জানি, সারাদেশে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে মহানগর কমিটি অগ্রাধিকার পাবে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম মহানগরে ছাত্রদলের বিদ্যমান সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ গত ৯ জুলাই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। অবশ্য ২০১৭ সালে তিনি নগর বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু গত বছরের ২৬ জুলাই নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যোগ দিয়ে বিএনপি’র অঙ্গসংগঠনটির একইপদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম রাশেদ খান বর্তমানে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি পদে আছেন। এছাড়া বাকি সদস্যের মধ্যে আরে ছয়জন বিএনপি এবং অন্যান্য অঙ্গসংগঠনে যোগ যোগ দিয়েছেন। একজন মারা গেছেন।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: