Tuesday, 25 February 2020

মাসেও বসেনি চবির আবাসিক হলে সিসি ক্যামেরা, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ


আল আমিন চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধিঃ  গত বছর অক্টোবরে বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নড়েচড়ে বসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও বাড়তি নজরদারির জন্য হলগুলোতে সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপনের ঘোষণা দেন উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার।

কিন্তু উপাচার্যের এমন ঘোষণার ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গেল বছর ১০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কক্ষে প্রভোস্ট কমিটির সাথে উপাচার্যের এক বৈঠকে সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। হলগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনারও সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে হলগুলোতে সিসিটিভি লাগানোর দ্বায়িত্ব দেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসকে। প্রক্টর অফিস বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক, প্রধান প্রকৌশলী ও প্রক্টররের সমন্বয়ে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটির সাথে সমন্বয় করে সিসিটিভি বসানোর কথা। তবে অদৃশ্য কারনে দীর্ঘদিন ধরে থমকে আছে এই কার্যক্রম।

এদিকে শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্বিবিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থীর আসন রয়েছে। প্রয়োজনীয় পদ্ধতি অনুসরণ করে বিশ্বিবিদ্যালয়ের আবাসিক হলে সিট বরাদ্দ নিয়েই থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে হলের আসন বরাদ্দ না দেওয়ায় অনেক কক্ষে অবৈধভাবে থাকছেন শিক্ষার্থীরা। যাদের কোন পরিচয় নেই হল কতৃপক্ষের কাছে।

ফলে এসব শিক্ষার্থী হলে কোন বড় রকমের দুর্ঘটনা ঘটালে তাদের চিহ্নিত করা কিংবা খুঁজে বের করা হবে অসাধ্য। সেক্ষেত্রে যদি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকে তবে তার মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা সামাল দেয়া সম্ভব হবে।

শিক্ষার্থীরা আরো জানান, ছাত্র সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধে বিশ্বিবিদ্যালয়ে প্রায়ই লেগে থাকে সংঘাত। এসময় তাদের আবাসিক হলগুলো থেকেই অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়। এতে অনেকে আহতও হন। এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তদন্ত প্রতিবেদন তৈরিতে বেশ সময় নিয়ে থাকেন। যদি সিসিটিভি ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয় তাহলে দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব।

তাছাড়া আবাসিক হলগুলোতে প্রায়ই মাদক সেবন ও চুরির ঘটনা ঘটে। দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলে এ ধরনের কার্যক্রম দ্রুত বন্ধ করা যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর এস এম মনিরুল হাসান চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, আবাসিক হলগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর জন্য আমরা ইতোমধ্যে স্টিমেট নিয়েছি। কয়েকটা কোম্পানি আমাদের প্রপোজাল দিয়েছে। আমরা তা টেকনিক্যাল কমিটিতে আলোচনা করে দ্রুত সিসিটিভি বসানোর ব্যবস্থা করবো।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: