Sunday, 22 December 2019

চট্রগ্রাম পটিয়ায় বিকল্প উপায়ে ৩২ একর জমিতে লবণ চাষ




আব্দুল করিম চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি


চট্রগ্রাম পটিয়ায় লবণ উৎপাদনে চমক সৃষ্টি করেছে ইন্দ্রপুল লবণ মিল মালিকরা। কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী, চকরিয়া, বাঁশখালী, বারোয়াখালী থেকে পটিয়া ইন্দ্রপুল লবণ মিলে ক্রুড লবণ আমদানি করা করা হয়। এসব ক্রুড লবণ পরিশোধন ও রিফাইন্ড করার সময় ওখান থেকে প্রচুর পরিমাণে স্যালাইন বা পানি ব্যবহার করা হয়। এখান থেকে বের হওয়া ময়লা ও কাদা থেকে লবণ উৎপাদন করা হচ্ছে।
পটিয়া ইন্দ্রপুল লবণ মিল মালিক সমিতির দেয়া তথ্য মতে, এখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা প্রায় ৩২ একর জমিতে কাদা ও ময়লা পানি থেকে লবণ উৎপাদন হয়। শুষ্ক মৌসুমে ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত ছয়মাসে আবহাওয়া ভাল থাকলে ১৩শ’ মেট্রিকটন লবণ উৎপন্ন হয়। প্রতি কানি জমিতে এখানে লবণ উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ৪শ’ মণ।
জানতে চাইলে পটিয়া ইন্দ্রপুল লবণ মিল মালিক সমিতির সাধারণ ফজলুল হক আল্লাই বলেন, এখানে দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় খুবই অপ্রতুল জায়গায় কিছু লবণ উৎপাদন হচ্ছে। এতে কিছু মানুষ সাময়িক লাভবানও হচ্ছে। তবে এখানে স্থায়ীভাবে লবণ উৎপাদন করা সম্ভব নয়। কারণ এ মাঠগুলো ও আশপাশের এলাকা জনবহুল ও আবাসিক এলাকা। স্থায়ীভাবে লবণ উৎপাদন করা হলেও আবাসিক এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হবে। এতে পুরো এলাকা লবণাক্ত হয়ে পড়বে। ফলে বিশাল এলাকাজুড়ে মানুষের বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়বে।ক্রুড লবণ পরিশোধন ও রিফাইন্ড করার সময় বের হওয়া স্যালাইন বা পানির কাদা ও ময়লাগুলো জমিতে গিয়ে জমা হয়। এসব জমিতে পলিথিন ও বাঁধ দিয়ে সেখানে লবণগুলো উৎপাদন করা হচ্ছে। জানাযায়, গত ৫-৭ বছর ধরে এখানে মাত্র ৩-৪ একর জমিতে এ পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন করা করে সফলতা লাভ করার পর গত দু’বছর ধরে ৩২ একরের অধিক জমিতে এ পদ্ধতিতে লবণ চাষ করা হয়। এতে সফলও হচ্ছে মিল মালিকরা।
এ বিষয়ে মোস্তফা সল্ট মিলের ম্যানেজার কিশোর দাশ জানান, পটিয়ার ইন্দ্রপুলের এসব লবণ মাঠে প্রতিদিন প্রায় ২০-২৫ জন শ্রমিক কাজ করে। যাদের প্রতিদিনের বেতন ভাতা সাড়ে ৫শ’ টাকা থেকে ৬শ’ টাকা পর্যন্ত। এখানে ক্রুড লবণের রিফাইন্ড ও পরিশোধিত স্যালাইন পানির কাদা ও ময়লা পানি থেকে মাঠে যে লবণ উৎপাদন করে তাদের মধ্যে মোস্তফা সল্ট, মোহাম্মদ ওসমান, মোহাম্মদ জসিম ও মোহাম্মদ ছাবের অন্যতম। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মালিকরা তাদের মাঠে এ লবণ উৎপাদন করে থাকেন।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: