প্রশস্ত হচ্ছে হেয়াকো ট্রানজিট সড়ক
আব্দুল করিম চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
চট্রগ্রাম ফটিকছড়ি ৪ লক্ষাধিক মানুষের নানামাত্রিক ব্যবসার দ্বার উন্মোচিত হবে।
ফটিকছড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হেঁয়াকো সড়কের প্রশস্তকরণ কাজ এগিয়ে চলছে। এর উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। উল্লেখ্য, রামগড়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নির্মাণাধীন স্থলবন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে এই সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সড়কটি ইতোপূর্বে ১৪ ফুট প্রশস্তের ছিল। বর্তমানে এটিকে ২৪ ফুট প্রশস্ত কার্পেটিং সড়কে উন্নীত করা হচ্ছে। সেইসাথে প্রতিটি ব্রিজ কালভার্ট নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। এ পথে ভারতের পণ্য আনা-নেয়া শুরু হলে উত্তর ফটিকছড়ির মানুষের নানামাত্রিক ব্যবসার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদী স্থানীয়রা।
বর্তমানে সড়কটির বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েকশত শ্রমিক বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে নিয়মিত কাজ করছে। ফটিকছড়ি উপজেলা সদরের পেলাগাজী দিঘি এলাকায় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক থেকে শুরু হয়ে সড়কটি উত্তর ফটিকছড়ির হেঁয়াকো বাজারে ফেনী-খাগড়াছড়ি সড়কের সাথে যুক্ত হয়েছে। ফটিকছড়ির সাংসদ বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভা-ারীর একান্ত চেষ্টায় সড়কটির উন্নয়নের জন্য ১৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ প্রসঙ্গে সাংসদ আলহাজ সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভা-ারী প্রতিবেদককে বলেন, রামগড়ে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে যে স্থলবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটির বিষয় মাথায় রেখে সড়কটি ডাবল লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছি। ভারত চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে তাদের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এ সড়কটি ব্যবহার করতে পারবে। এ সড়কপথে ভারত সীমান্ত থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৬৫/৭০কি.মি.। এ পথে ভারতের পণ্য আনা-নেয়া শুরু হলে উত্তর ফটিকছড়ির মানুষের নানামাত্রিক ব্যবসার দ্বার উন্মোচিত হবে। এছাড়া উত্তর ফটিকছড়ির বিস্তীর্ণ জায়গায় নানামাত্রিক শিল্প কারখানাও স্থাপন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া তিনি ফটিকছড়ি-গহিরা সড়কের কাজও শুরু হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, সেটি সম্পন্ন হলে ঢাকার সাথে রাঙামাটি, বান্দরবান ইত্যাদি এলাকায় যেতে ফটিকছড়ি হেঁয়াকো সড়ক এবং ফটিকছড়ি-গহিরা সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এতে চট্টগ্রাম নগরীতেও যানজট যেমন কমবে, দূরত্বও অনেক কমবে।
এ ব্যাপারে নারায়ণহাট কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তাহের চৌধুরী বলেন, সড়কটি নির্মাণের ফলে উত্তর ফটিকছড়ির মানুষের জীবনযাত্রার মান পাল্টে যাবে। সড়কটি প্রশস্তকরণে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাহের এন্ড ব্রাদার্সের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রাসেল আহমদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ২৭.২৭৫ কি.মি. দৈর্ঘ্য এবং ২৪ ফিট প্রস্থের সড়কটির জন্য মোট বরাদ্দ রয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। এছাড়া সড়কটিতে ১১টি ব্রিজ ও ৩২টি কালভার্ট নির্মাণে বরাদ্দ রয়েছে ৪৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। উক্ত প্রতিষ্ঠান গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর কার্যাদেশ পেয়েছে। আগামী বছরের ১৮ ডিসেম্বর কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হবে বলে ইঞ্জিনিয়ার রাসেল আহমদ জানান। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ব্রিজ কালভার্টের কাজ ৯০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে এবং সড়কের কাজ ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়ায় কাজ করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভূমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুতসময়ে শেষ করা গেলে নির্ধারিত সময়ের আগেই সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ ব্যাপারে সওজ’র ফটিকছড়ি শাখা কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী সেগুন প্রসাদ বড়–য়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়কটির উন্নয়নকাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।


0 coment rios: