মীরসরাইয়ে পাহাড় কেটে বসতি
আব্দুল করিম
চট্রগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানঃ
মীরসরাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ের পাদদেশে ও অনেক স্থানে পাহাড়ের ঢালুতেই বেড়ে চলেছে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি গড়ার প্রবণতা। এই বিষয়ে স্থানীয় সরকার ও সংস্লিষ্ট প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে ভূমি ধসে ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
মীরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর, দুর্গাপুর, খৈয়াছরা, করেরহাট, হিঙ্গুলী সহ অনেক এলাকায় পাহাড়ের উঁচু ও ঢালু পাহাড়ের পাদদেশে দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপনের প্রবণতা। খৈয়াছরা ও দুর্গাপুর গ্রামে গত কয়েক বছরেই শতাধিক নতুন বসতি লক্ষনীয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণ বলেই মন্তব্য করেন অনেকেই। কিন্তু এই বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বার বার নিষেধ করা স্বত্ত্বেও উদ্যোগীরা মানছে না নিষেধাজ্ঞা। তাই প্রশাসননিক হস্তক্ষেপ জরুরী বলে মনে করেন সচেতনমহল।
আমাদের দেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড় ধসের কারণ হিসেবে অনেক বিষয়কে মনে করা হচ্ছে। গত ৩০ বছরে বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।তাছাড়া বিশ্ব আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তনে এমন বৃষ্টিধারা হঠাৎ করে প্রবল আকার ধারণ করে। কোন কোন সময় ৫/৬ ঘণ্টায় ১৫ দিনেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়ে যায়। ফলে পাহাড়গুলো আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এছাড়া পরিবেশবাদিদের পর্যবেক্ষণে বলেছে, সম্প্রতিক বছগুলোতে তিন পার্বত্য জেলায় একের পর এক পাহাড় ধসের ঘটনায় দেখা যায় উত্তর-দক্ষিণের বিস্তৃত সড়কগুলোর দুই পাশের পাহাড়গুলো বেশি ধসেছে। এ সব পাহাড়ের বিভিন্ন স্তরে বালুও মাটির স্তর রয়েছে। এ ধরনের বিশেষ ভূতাত্বিক গঠনকে আমলে না নিয়ে এবং ধস রোধের কোন রকম ব্যবস্থাপনা না রেখে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ভৌগোলিক বন্ধন ও গঠন নষ্ট করে সড়ক নির্মাণের পর পাহাড়গুলোর উপর আরেক বিপদ তৈরি করে বসতি স্থাপনকারীরা। সড়ক নির্মাণের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা পাহাড়গুলোতে বসতি বেড়ে যাওয়ায় বড় বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি করে। সড়কের পাশে বসতি স্থাপন সহজ হওয়ায় সীমাহীনভাবে পাহাড়ের ঢালে অবৈধ বসতি বেড়ে গেছে। ফলে পাহাড়গুলোতে মহা বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে। ঠিক এমনি অবস্থা দেখা গেছে মীরসরাই উপজেলার খৈয়াছরা ইউনিয়নের বাওয়াছড়া এলাকায় যাবার পথে পাহাড়ের পাদদেশে। এছাড়া ৮ নং দুর্গাপুর ইউনিয়র পাহাড়ি নিকটবর্তি মস্তাননগর এবং মহামায়া এলাকায় ও একই দশা।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমির ধরণ, পানির প্রবাহও বর্তমানের বৈরি আবহাওয়াকে বিবেচনায় না নিয়ে নানা ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প ও বসতি স্থাপিত হয়েছে। এর ফলে বনভূমি ও পানির ভিমগুলো ধ্বংস হয়েছে। অপরিকল্পিত ভাবে পাহাড়ের যত্রতত্র ঘরবাড়ি বানিয়ে যেমন বন উজাড় করছে, তেমনি তারা পাহাড়ের পাদদেশে ও রাস্তার পাশে বাড়ি করে তাদেরকেও ঝুঁকিতে ফেলেছে। ২০০৭ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে তিন পার্বত্য জেলা এবং কঙবাজার ও চট্টগ্রামে বহু পাহাড় ধসের কারণে ৪৯০ জন মানুষ মারা গেছে বলে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে। বনখেকো ও পাহাড় খেকোদের দমন করতে না পারলে পাহাড়ি এলাকায় এ ধরণের ভূমি ধসে মহাবিপর্যয়ে পড়তে হবে। এই বিষয়ে মীরসরাইয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী বর্ষার পূর্বে আমরা সকল ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পাহাড়গুলোর পাদদেশ থেকে সকল প্রকার বসতি অপসারণের উদ্যোগ গ্রহন করবো। আবার সচেতনতা সৃষ্টি ও করা হবে।


0 coment rios: