Saturday, 14 March 2020

নৌকা ধরেই পার পেতে চায় চট্টগ্রামের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীরা



আব্দুল করিম
চট্রগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানঃ

নিজেদের প্রচারণাই শুধু নয়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে দল মনোনীত মেয়র প্রার্থীর প্রচারণাতেও প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের মনোনীত ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে। নিজেদের প্রচারণার সমান গুরুত্ব দিয়েই মেয়র প্রার্থীর প্রচারণা করছেন এসব কাউন্সিলর প্রার্থীরা। অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের প্রচারণার চেয়েও গুরুত্ব পাচ্ছে মেয়র প্রার্থীর প্রচারণা। এর কারণ হিসেবে স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, নৌকা ধরেই পার হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন দলীয় সমর্থন পাওয়া ও বঞ্চিত হওয়া এসব প্রার্থী।
এক্ষেত্রে দলীয় সমর্থন পাওয়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক মনে করা হলেও বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে অনেকের। এমনকি খোদ দলের দায়িত্বশীলরা বলছেন, কাউন্সিলর প্রার্থীদের ক্ষেত্রে দলের অবস্থা চূড়ান্ত । এখন কেউ যদি নিজ দায়িত্বে দলীয় মেয়র প্রার্থীর প্রচারণা করতে চায় তাহলে কেউ তাদের বাধা দেবে না। তবে এক্ষেত্রে কাউন্সিলর পদে দলের অবস্থান পরিবর্তন হবে— এমনটি মনে করার কোন সুযোগ নেই।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টারের সাথে মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিমের পোস্টার ঝুলছে একই সারিতে। পাশের সারিতেই বিদ্রোহী প্রার্থীর পোস্টারের সাথেও ঝুলছে রেজাউলের পোস্টার। এর বাইরে জনসংযোগ সভাগুলোতেও নিজেদের প্রচারের পাশাপাশি মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিমের প্রচারণা চালাচ্ছেন এসব প্রার্থীরা।তবে মেয়র প্রার্থী রেজাউলের পক্ষে বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণা চালানোকে ভালভাবে নিচ্ছেন না দলীয় মনোনয়ন পাওয়া কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তারা বলছেন, দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্ত না মেনে যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তাদের কোন অধিকারই নেই দলীয় মেয়র প্রার্থীর প্রচারণা চালানোর।
১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন পাওয়া অধ্যাপক ইসমাইল বলেন,‘তারা তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মানেনি। দলের প্রতি তাদের আনুগত্য এ মধ্যেই তো স্পষ্ট হয়েছে। তাদের কোন অধিকারই নেই দলীয় মেয়র প্রার্থীর প্রচারণা চালানোর। দলের প্রতি ভালবাসা থেকে নয়, জনগণের আক্রোশ থেকেই নিজেদের বাঁচাতে তারা মেয়র প্রার্থীর প্রচারণা চালাচ্ছে।অন্যদিকে ‘বিদ্রোহী’ এসব আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বলছেন, বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে নয় বরং দলের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই মেয়র পদে দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হওয়া রেজাউল করিম চৌধুরীর প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা।২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ড থেকে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত কাউন্সিলর প্রার্থী এসএম এরশাদ উল্লাহ  বলেন,‘দলের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। মেয়র পদে দলীয় প্রতীক আছে। আমরা সবসময় দলীয় প্রতীকের পক্ষে নির্বাচন করেছি। এখনও করছি। এটাকে ভিন্নভাবে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। আমরাও আওয়ামী লীগ করি। আর দল যদি আমাদের নির্বাচনের প্রশ্নে কঠোর হতো তাহলে তো আমরা নির্বাচনে থাকতে পারতাম না।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন
,‘কাউন্সিলরের বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। ইতোমধ্যে পত্র পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে আমাদের দলীয় সমর্থিত প্রার্থীদের নাম প্রচার করা হয়েছে। এরাই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থী। এর বাইরে কেউ যদি নিজেদের উদ্যোগে আমাদের মেয়র প্রার্থীর প্রচারণা করতে চায় আমরা তো বাধা দিতে পারি না। তবে এসব করে কাউন্সিলর পদে আমাদের অবস্থানকে প্রভাবিত করার সুযোগ নেই।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: