Wednesday, 26 February 2020

রেলওয়ের জায়গায় সিটি কর্পোরেশনের প্লট বাণিজ্য, মুখোমুখি দুই সংস্থা





আল আমিন চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ  বিনা দরপত্রে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) নেওয়া প্রায় সোয়া ৭ একরের একটি জমির সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ না করায় বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। তবে বরাদ্দ পাওয়া ওই জায়গার ১১২টি প্লটের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪০টি প্লট বিক্রি করে ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চসিক।

এদিকে চুক্তি মোতাবেক যথাসময়ে রেলভূমি অর্থ পরিশোধ না করায় বরাদ্দ বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রীট মামলা দায়ের করে চসিক। সেখানেও আইনী জটিলতায় বাতিল হতে পারে সিটি কর্পোরেশনের পাওয়া বরাদ্দ প্রকল্পটি- এমনটি জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, ১৯৯৬ সালের ১৬ অক্টোবর বিনা দরপত্রে মাদারবাড়ি মৌজায় ২১টি দাগের লটে/৮০টি প্লটের ৭ দশমিক ২ হাজার ৪৩২ একরের রেলভূমি মহাপরিচালকের বরাবরে রেবি/ভূস/৮৭/৯৩ (অংশ-৬)-৫৮৬ লট নম্বর এডিভি লট নম্বরে নগদ মূল্যে পরিশোধের মাধ্যমে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয় কর্পোরেশনকে। ১৯৯৭ সালের ১৭ নভেম্বর ওই জমির মূল্য ১৩ কোটি ৯৩ লাখ ২১ হাজার ৩২০ দশমিক ৬০ টাকা নির্ধারণ করে পরবর্তী এক বছরের মধ্যে চার কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করতে কর্পোরেশনের অনুকূলে একটি চাহিদাপত্র জারি করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

১৯৯৮ সালের ১৯ জানুয়ারি রেলভূমি দরপত্রের শর্ত মোতাবেক প্রথম কিস্তি বাবদ ৩ কোটি ৪৮ লাখ ৩০ হাজার ৩৩০ দশমিক ১৫ টাকা পরিশোধ করে চসিক। এরপর কর্পোরেশন দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের বকেয়া ৩ কিস্তি পরিশোধ না করায় ১৯৯৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর একটি নোটিশ জারি করে রেলওয়ে। সেখানে দুই মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু চসিক তা আমলে না নিয়ে ওই জমিতে মাটি ভরাট ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়। ফলে ২০০১ সালের ২৬ এপ্রিল কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখতে আবারও নোটিশ দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, এসব নোটিশের তোয়াক্কা না করে ২০০১ সালের ১ নভেম্বর চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রিকায় মাদারবাড়ি পরিবহন টার্মিনাল দোকান-অফিস, বাণিজ্যিক হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ওয়ার্কসপ, পেট্রোল পাম্প, আবাসিক-বাণিজ্যিক কাজে বরাদ্দ প্রদানের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। ২০০২ সালের ২৮ মার্চ বিষয়টি অবগত হওয়ার পর ওই বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় রেলওয়ে। বকেয়া ৩ কিস্তির টাকা পরিশোধ না করে এই ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য চসিককে অনুরোধ জানানো হয়। পরে আরও একাধিকবার অবগত করে নোটিশ ও চিঠি জারির পরও বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় ২০০৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ওই জমির বরাদ্দ বাতিল করে রেলওয়ে।

কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের সদরঘাট থানা এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কাছ থেকে বিনা টেন্ডারে ৭ দশমিক ২৪ শত ৩২ একরের ‘মাদারবাড়ি পোর্ট সিটি হাউজিং প্রকল্প’ নেয় চসিক । এরপর ১১২টি প্লটের মধ্যে ৪০টি বরাদ্ধ দেওয়া হয় বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট। ৭২টি প্লট বর্তমানে অবিক্রিত রয়েছে। আড়াই কাঠা বিশিষ্ট প্রতিটি প্লট বিক্রি হয় ২৫ লাখ টাকা করে। এতে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

এদিকে রেলভূমি দরপত্র বাতিল করা হলেও ২০০৩ সালের ২২ জুলাই ওল্টো জমির কবলা ও রেজিস্ট্রে সংক্রান্ত দলিলাদি প্রদানের জন্য চট্টগ্রামের ২য় জেলা যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। একই সঙ্গে ২০০৪ সালের ১৯ জুলাই ওই জমি তৃতীয় কোন পক্ষকে হস্তান্তর না করার জন্য রেলওয়ে বরাবর রুল জারি করে হাইকোট। বর্তমানে উভয়পক্ষ এ বিষয়ে হাইকোর্টে রায়ের অপেক্ষায় আছে বলে জানা গেছে।



এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ইশরাত রেজা চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ১৫ বছরের বেশি সময়ে রেলভূমি দরপত্রের নিয়ম লঙ্ঘন করায় চসিককে দেওয়া জমির বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রীট মামলা দায়ের করে চসিক। আইনী মোকাবেলার মাধ্যমে রেলওয়ে পক্ষে রায় আসবে আশা করছি।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ২২ বছরের আগে রেলওয়ে থেকে দরপত্রের মাধ্যমে ৭ একরের বেশি একটি জমি বরাদ্দ নেয়া হয়। দরপত্রের শর্ত মোতাবেক চার কিস্তি পরিশোধের মাধ্যমে জায়গাটি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা প্রথম কিস্তি পরিশোধ করে জায়গাটি উন্নয়ন করেছি। পরবর্তীতে রেলওয়ে কাছে থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ বকেয়া পাওনা প্রায় ৭০ কোটি ৩৭ লাখ ৯৭ হাজার বেশি টাকা থেকে জমি বরাদ্দের পাওনা টাকা সমন্বয় করা হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি তারা (রেলওয়ে) একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে বরাদ্দ বাতিল করে দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রীট মামলা দায়ের করেছে চসি

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: