Saturday, 22 February 2020

বাড়ছে প্রকল্প, বাড়েনি জনবল চট্টগ্রাম ওয়াসা




আব্দুল করিম চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি


চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) ও ইঞ্জিনিয়ার, এ পদ দুটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। দুটি পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন সেবা সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) গোলাম হোসেন। এ নিয়ে তাঁকে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকের তিনটি পদের কাজ সামলাতে হচ্ছে। সংস্থার ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা মোস্তাফা’র অবস্থাও একই। তিনি নিজের দায়িত্ব ছাড়াও ওয়াসার সচিব এবং বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক পদ দুটিতে কাজ করছেন। প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-২ এর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম ‘চিটাগাং ওয়াটার সাপ্লাই ইম্প্রুভমেন্ট এন্ড সেনিটেশন’ প্রকল্প এবং স্যুয়ারেজ প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দুটি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহম্মদ মাহবুবুল আলমও অতিরিক্ত তিনটি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ভা-ালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরিচালকসহ আরো একটি পদে কাজ করছেন। চট্টগ্রাম ওয়াসার কাজের এ চিত্র শুধু আলোচ্য পাঁচ কর্মকর্তার ক্ষেত্রে নয়, সংস্থাটির বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দীর্ঘদিনের চিত্র এটি। পদ অনুযায়ী লোকবল না থাকা, জনবল নিয়োগে বিলম্ব এবং সংস্থার একাধিক নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে অতিরিক্ত কাজের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন ওয়াসার বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী। এমনকি প্রয়োজনীয় ছুটি ভোগ করা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদের সংখ্যা এক হাজার ৪৮। কিন্তু বর্তমানে লোকবল রয়েছে ৬৭০ জন। শূন্য রয়েছে ৩৭৮টি পদ। লোকবলের বিশাল এই শূন্যতার কারণে ওয়াসায় প্রতিদিনের কর্মকা-ে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।
১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রথম অর্গানোগ্রাম তৈরি হয় ২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট। ওই সময়ে ওয়াসার লোকবলের পদ ছিল ৭২১ জন। এর ৫ মাসের ব্যবধানে ২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় অর্গানোগ্রামে কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ ছিল ৯৫৬টি।
ওয়াসা সূত্র জানায়, ১৯৮৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এনামুল হক কমিটি কর্তৃক ওয়াসার সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা হয়। ২০১৩ সালে এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয়। সূত্র আরো জানায়, ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে উৎপাদন শুরু করে শেখ হাসিনা শোধনাগার। এটির দৈনিক উৎপাদন ১৪ কোটি লিটার। এর দুই বছরের ব্যবধানে ২০১৮ সালের নভেম্বরে শেখ রাসেল (মদুনাঘাট) পানি শোধনাগার প্রকল্পটি চালু করে ওয়াসা। ওই প্রকল্পে দৈনিক পানি উৎপাদন হয় ৯ কোটি লিটার। অথচ এ দুটি প্রকল্প চালু হওয়ার আগে ওয়াসার দৈনিক পানি উৎপাদন হতো মাত্র ১৫ কোটি লিটার। বর্তমানে চালু হওয়া প্রকল্প দুটি থেকে পানি মিলছে দৈনিক ২৩ কোটি লিটার। এ অবস্থায় পানি উৎপাদন দ্বিগুণের বেশি হলেও ওয়াসার লোকবলের সংখ্যা বাড়েনি। আগের লোকবল দিয়ে চলছে ওয়াসার কর্মকা-। এর মধ্যে আরো বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এতে কাজের চাপে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) গোলাম হোসেন বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরের ব্যবধানে ওয়াসার পানি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কাজের পরিধি কয়েক গুণ বেড়েছে। রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার ও হাটহাজারীর মদুনাঘাটস্থ শেখ রাসেল পানি শোধনাগার উৎপাদনে যাওয়ার ফলে নতুন করে বিপুল সংখ্যক লোকবল প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এছাড়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-২ এর কাজ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এটিও এ বছরে উৎপাদনে যাবে। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ভা-ালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ। সুতরাং বিশাল এ কর্মযজ্ঞ চালাতে ওয়াসার আরো লোকবল প্রয়োজন হবে। এ নিয়ে ওয়াসা এক হাজার ১১৭ জনের নতুন একটি অর্গানোগ্রাম তৈরি করেছে। এটি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে’।ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ  বলেন, ‘ওয়াসাতে এখন অনেকগুলো প্রকল্পের কাজ চলছে। কিন্তু আমরা আগের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী কাজ করছি। এতে কাজের চাপ বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদিত হলে পর্যায়ক্রমে লোকবল নিয়োগ করা হবে’।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: