চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১০ কোটি টাকার খননযন্ত্র হেলাফেলায় ‘নষ্ট’
আব্দুল করিম চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কোটি টাকার সম্পদ ‘নষ্ট’ ঘোষণা দিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। অব্যবস্থাপনা ও ব্যক্তি লাভের লোভে প্রায় ৪ বছর ধরে ফেলে রাখা এসব খননযন্ত্র সংস্কারের অভাবে দিনের পর দিন অকেজো হয়ে পড়ছে। ‘নষ্ট’ বলে ফেলে রাখা সম্পদের দাম ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। নতুন দরপত্র আহ্বান করে নতুন করে কেনার সুযোগ সৃষ্টি করতেই চসিকের শীর্ষ কর্মকর্তার জ্ঞাতসারে এই কাণ্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি অর্থের এমন অপচয়ে বিস্মিত হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।অনুসন্ধানে দেখা যায়, চট্টগ্রামের হালিশহর থানার আনন্দবাজার টেনজিন গ্রাউন্ডে (টিজি)খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা হয়েছে ৩টি স্কেভেটর ও দুটি চেইন ড্রোজার। এর মূল্য ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা। একই সঙ্গে বায়েজিদ থানার আরেফিন নগরে চসিকের ময়লার স্তুপ এলাকার সড়কের একপাশে খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা হয় আরও তিনটি স্কেভেটর। দীর্ঘ ৪ বছর ধরে অবহেলায় পড়ে থাকার কারণে অকেজো হয়ে পড়ছে অধিকাংশ স্কেভেটর।
বায়েজিদ থানার আরেফিন নগর চসিকের ময়লার স্তুপ সড়কে পরিত্যক্ত অবস্থায় তিনটি স্কেভেটর
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মেয়াদের শেষের দিকে দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হয় স্কেভেটরগুলো। এর মধ্যে কয়েকটি পুরনো (সেকেন্ড হ্যান্ড) স্কেভেটর কেনা হয়। প্রতিটি স্কেভেটর ও চেইন ড্রেজার কেনা হয় প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যে। ২০১৬ সালে এসব খননযন্ত্রগুলো সচল অবস্থায় হালিশহরের টিজিতে ও আরেফিন নগরে নিয়ে রাখা হয়। দীর্ঘ ৪ বছরেও এগুলো ব্যবহার করার কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এভাবেই ৮-১০ কোটি টাকার সম্পদ ব্যবহার না করে পরিত্যক্ত করে রাখা হয়েছে।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের নিয়োজিত একটি সিন্ডিকেট দরপত্র বাণিজ্য করতে সুকৌশলে স্কেভেটরগুলো অকেজো অবস্থায় নষ্ট বলে ফেলে রাখা হয়েছে। চসিক থেকে নতুন দরপত্র আহ্বান করে নতুন করে কেনার সুযোগ সৃষ্টি করতে মূলত এটি করছে সেখানকার কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।’



0 coment rios: