Friday, 27 December 2019

চট্রগ্রাম বোয়ালখালীতে খাল দখলের প্রতিযোগিতা



আব্দুল করিম চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি


স্থানীয় প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বোয়ালখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নের কমপক্ষে অর্ধডজনেরও বেশি জনগুরুত্বপূর্ণ খাল-উপখাল দখল করে নিয়েছে এলাকার প্রভাবশালীরা। ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা সহ চাষাবাদ ও নৌ চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। বোয়ালখালী উপজেলার উত্তর-পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে খরস্রোতা কর্ণফুলি নদী। এছাড়াও এর উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে রায়খালী খাল, বোয়ালখালী খাল, ছন্দরিয়া খাল, নবুয়াখালী খাল, মরদমা খাল, কর্ণালের খাল, পেতন আউলিয়া খাল, নূর মাঝির খাল, চোরাখালী খাল বেইচ্চাখালী খাল, কাটাখালি, বুড়ির মার খাল, মর্দনা খাল’সহ আরো অসংখ্য খাল। এ গুলোকে কেন্দ্র করে এক সময় এখানে ব্যাপকহারে চাষবাস, ক্ষেত-খামারের আবাদ হতো। কিন্তু কালের পরিক্রমা ও সংস্কারের অভাবে এসব খালের মধ্যে অনেকগুলোই ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় বাকি যে ক’টা অবশিষ্ট রয়েছে সে গুলো এলাকার প্রভাবশালীরা বিভিন্ন কায়দায় দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবুল মনসুর নামের পূর্ব গোমদন্ডী বহদ্দার পাড়ার এক চাষীর অভিযোগ এক সময় খালগুলোর জোয়ার-ভাটাকে কাজে লাগিয়ে আমরা চাষাবাদ করতে পারতাম তা ছাড়াও এগুলো দিয়ে কম খরচে মালামাল পরিবহণ ও যাতায়াতে সুবিধা হতো। কিন্তু এখন এসব খালগুলো বেদখল হয়ে যাওয়ায় যেমন চাষাবাদ হয়না তেমনি এগুলো দিয়ে সাম্পান আর নৌকা চালানো যায়না বিধায় সস্তায় মালামাল পরিবহণ ও যাতায়াতও সম্ভব হয়না। উপজেলার মুরাদ মুন্সির হাটের দোকানী বাচা সওদাগর বলেন আগে আমরা চাক্তাই থেকে দোকানের মালামাল আনতাম নৌকা করে এতে আমাদের পরিবহন খরচ যেমন কম পড়তো তেমনি সড়কের উপর চাপ কমতো, খালগুলোর বেশির ভাগ বেদখল হয়ে যাওয়ায় এখন আর নৌকা দিয়ে মালামাল আনা সম্ভব হয়না বিধায় বাধ্য হয়ে ট্রাক কিংবা পিকআপ ভ্যান করে আনতে হয়।এতে করে পরিবহণ খরচ যেমনি বেড়ে গেছে তেমনি সড়কগুলোর উপর একটা চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আবুল বশর নামের হাজির হাট বাজারের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ির অভিযোগ এক সময় আমরা ছন্দারিয়া খালটি দিয়ে নৌকা-সাম্পান করে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহণ করতাম। কিন্তু খালটির অলি বেকারী এলাকা থেকে হাজীর হাট বাজার পর্যন্ত সামান্য অংশে প্রভাবশালীরা খালের মাঝখানে পিলার গেঁড়ে কমপক্ষে ১০/১২ টা পুল বা ব্রীজ নির্মাণ করাতে এখন নৌকা-সাম্পান কিছুই চালানো যায়না। অনেকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি।এ নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত খতিয়ে দেখব। যদি এমনটা হয়ে থাকে তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: