Friday, 13 September 2019

চট্টগ্রাম জামালখানে ফুটপাতে ভাসমান বাজারে চাঁদা আদায়



আব্দুল করিম চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধিঃ-

চট্টগ্রাম জামালখান কিংবা ডিসি হিল এলাকায় ফুটপাত ইজারা দেয়নি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। সেবামূলক এ সংস্থা সেখানে থেকে আর্থিকভাবে লাভবানও হয়না। ফুটপাতের মালিক সিটি কর্পোরেশন হলেও চাঁদার ভাগ যায় কিছু যুবক ও পুলিশের কাছে। তবে ডিসি হিল ও জামালখানে ফুটপাতের সকালের তিনঘণ্টার এ বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় হয়। ডিসি হিল এলাকার সড়কের উপরে বসা বাজারে মাছ আর সবজির দোকান রয়েছে প্রায় ৫০টি। প্রতি দোকান থেকে দিনে ১৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করেন বাচ্চু নামের এক যুবক। ভাসমান ব্যবসায়ীদের কাছে যিনি বাচা ভাই নামে পরিচিত। ডিসি হিলের বাজারে চাঁদা আদায় করা হয় তা নয়। একই কায়দায় চাঁদা তোলা হয় জামালখানের তিন ঘণ্টার বাজারে। চাঁদার কারনে দুটি বাজারে চড়ামুল্যে বিক্রি হচ্ছে মাছ আর সবজি।
কোন নিয়ন্ত্রণ নেই- গ্রাহকদের কাছে ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছে বিক্রেতারা। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি-চাঁদার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বাড়িয়ে নেয়া হচ্ছে তরিতরকারি আর মাছের দাম। সরেজমিনে দেখা যায়, ডিসি হিল এলাকায় সড়কের উপর ভোর থেকেই আসতে থাকে সবজি ও মাছ ব্যবসায়ীরা। আনুমানিক ৩০/৩৫ বয়সী বাচ্চু তাদের কাছে বাচা ভাই নামে পরিচিত। অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটতে থাকে বাচ্চু। সবজি ও মাছ বিক্রেতার কাছ থেকে কোন রাগঢাক ছাড়াই টাকা তুলছেন। কোন ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে না চাইলে তাকে সরিয়ে দিচ্ছেন। বাচ্চুর তৎপরতা দেখে যে কারো মনে হবে তিনি যেন বাজার বসাতে ডিসি হিল এলাকা ইজারা নিয়েছেন। ভোরে হাঁটতে বের হওয়া সাধারন লোকজন ও স্কুলের অভিভাবকরা বাজার করেন জামালখান ও ডিসি হিলের এ বাজারে। বিশেষ করে সেখানে মহিলা গ্রাহক বেশী। বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মহিলারা বাজার করে থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েকবছর ধরে জামালখান সিঁড়ির গোড়া থেকে সিনিয়র ক্লাব পর্যন্ত ফুটপাতে প্রতিদিন ভোর ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা সবজি আর মাছ বিক্রি করছেন। ডিসি হিলের পাশে ফুটপাতেও একই ধরনের তিনঘণ্টার বাজার রয়েছে প্রতিদিন ভোরে হাঁটতে বের হওয়া লোকজন আর বাচ্চাদের সাথে স্কুলে আসা অভিভাবকরা মূলত এ বাজারের প্রধান গ্রাহক।
সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রাহকের কাছে ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছে জামালখান ও ডিসি হিলের সবজি আর মাছ ব্যবসায়ীরা। সেখানে নিয়ন্ত্রণ নেই কারো। বেশী দাম নেয়ার প্রতিবাদ করতে গেলে গ্রাহকদের সাথে অনেক সময় খারাপ ব্যবহারও করা হচ্ছে।
এজি চার্চ স্কুলে বাচ্চাকে রেখে বাসায় ফেরার পথে বাজার করতে আসা বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, তিন বছরের বেশী এখানে বাজার করছেন তিনি। বাচ্চাকে স্কুলে রেখে কাঁচাবাজার নিয়ে বাসায় ফিরেন তিনি। শুরুর দিকে শাক সবজি কিংবা কাঁচা মাছের দাম সহনীয় থাকলেও গত কয়েকমাস ধরে দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।
ধনী লোকের বাজার হিসাবে পরিচিত নগরীর কাজীর দেউরি বাজার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাজীর দেউরি বাজার আর তিনঘণ্টার বাজারের পণ্যের দাম তেমন পার্থক্য নেই। শীতের মৌসুমী সবজি রিয়াজ উদ্দিন বাজারে তুলনামূলক কম থাকলেও কখনো দাম কমেনা জামালখান ও ডিসি হিলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, জামাল খানের ফুটপাতে ৫০ জন ব্যবসায়ী রয়েছেন। যারা সবজি, মাছ আর মুরগি বিক্রি করেন। বাজারে সবজি কিংবা মাছের দাম সহনীয় থাকলেও ভোরের তিনঘণ্টার বাজারে চাইলেও আমরা কমদামে বিক্রি করতে পারিনা। কারণ এখনো কয়েক দফায় চাঁদা দিতে হয়। যেমন- স্থানীয় কয়েকজন যুবক রয়েছে যাদেরকে দোকান প্রতি প্রতিমাসে ৮’শ টাকা চাঁদা দিতে হয়। মাসিক চাঁদা ছাড়াও তাদেরকে প্রতিটি সবজি আর মাছের দোকান থেকে প্রতিদিন ৪০ টাকা করে মাসে ৬০ হাজার টাকা আলাদা দিতে হয়। স্থানীয় পুলিশ বিটের জন্য প্রতিদিন ২০ টাকা হিসাবে মাসে ৩০ হাজার আর ডিউটি পুলিশের জন্য প্রতিদিন ১০ টাকা করে মাসে ১৫ হাজার টাকাসহ সব মিলিয়ে প্রতিমাসে এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। এর বাইরে সুইপারের খরচ দিতে হয় দোকান প্রতি প্রতিদিন ২০ টাকা করে মাসে ২৪ হাজার টাকা দিতে হয় । নিজেদের সংসার চালানোর খরচ যোগাড় করতে হয়। চড়াদামে পণ্য বিক্রি না করলে এসব খরচ তোলা সম্ভব নয়।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: