Saturday, 21 September 2019

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের বেহাল দশা


টেকনাফ প্রতিনিধি:

দীর্ঘ সময় ধরে কক্সবাজার-টেকনাফ শহীদ এটিএম জাফর আলম আরাকান সড়কের বেহাল দশা। গত দু’বছরে এই সড়কে সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত। দীর্ঘ যানজট এলাকাবাসীর এখন নিত্যসঙ্গী। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে হাজার হাজার যানবাহন, প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ, রোহিঙ্গা ইস্যুতে এই সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
এলাকাবাসী জানান, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা কুতুপালং, থ্যাংখালী, বালুখালী, পালংখালী, উচিংপ্রাং, লেদা ও নয়াপাড়াতে আশ্রয় নেয়ার পর কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কগুলোতে দৈন্য দশা শুরু হয়। রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক, দেশীয় এনজিও ও দাতা সংস্থার হাজার হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক যাতায়াতের কারণে সড়ক চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই মহাসড়কে যান চলাচল বেড়ে যাওয়ায় উখিয়া-টেকনাফে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। উখিয়ার চৌধুরী পাড়া, কোটবাজার ও থ্যাংখালী এলাকায় প্রায়ই পণ্যবাহী ট্রাক বড় বড় খানা খন্দে পড়ে উল্টে যায়। এতে দু’পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হয়।
উখিয়ার কোট বাজারের সিএনজিচালক রুহুল আমিন জানান, এই সড়কে গত দশ বছর ধরে গাড়ি চালান তিনি। সড়কের বেহাল অবস্থা এবারের মতো আর কখনো হয়নি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা আসার পর থেকেই আমাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। কত সুন্দর সড়ক এখন খানা খন্দে পরিণত হয়েছে।
মোহাম্মদ ফরাজ নামের এক মোটর সাইকেল চালক বলেন, রাস্তার খানা-খন্দকের কারণে গাড়ি চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন আগে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেচে গেছি। খানা-খন্দকে মোটর সাইকেল চালাতে গিয়ে গাড়িটি পড়ে যায়। এতে হাত-পা এর বিভিন্ন অংশে ছিড়ে গেছে। তবে পড়ে যাওয়ার পর বাস চাপা দিলে হয়তো মরে যেতাম।
উখিয়ার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহামুদুল হক চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা আসার পর আমরা শুধু অর্থনৈতিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হইনি। বিগত দিনে আমাদের এলাকায় অবকাঠামোগত যে উন্নয়ন হয়েছিল সেগুলোও ধ্বংস হয়েছে। অবাধে ত্রাণের ও এনজিওদের গাড়ি চলাচলের কারণে রাস্তাঘাট নষ্ট হয়েছে।
কুতুপালং বাজার সমবায় সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, রাজাপালং এখন দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম একটি ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে ৫০ হাজার লোকের বাস থাকলেও এখন এখানে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাস করছে। দিনে হাজার হাজার গাড়ি চলছে এই সড়ক দিয়ে। উখিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত যে যানজট তৈরি হয় তা ঢাকার ব্যস্ততম ঢাকাতেও হয় না। এত বছরের জীবনে এখানে এত যানজট দেখিনি আমরা।
উখিয়া উপজেলা মিনিবাস চালক সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ জাহেদুল আলম বাবুল এবং উখিয়া বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমিন সিকদার ভুট্টো জানান, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে গত দুই বছর আগেও ৫ হাজার যানবাহন চলাচল করত। কিন্তু রোহিঙ্গা আসার পর এখন ১০ হাজারের অধিক এনজিওর ত্রাণবাহী ও বাণিজ্যিকভাবে ভারী পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করায় পুরো সড়কটিতে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ মাঝে মধ্যে এসব খানাখন্দে ইট ও বালি দিয়ে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করলেও তা ঘণ্টার বেশি স্থায়ী থাকে না। তাই সড়কটির বেহাল দশা কাটছে না।
কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, কক্সবাজার-টেকনাফ শহীদ এটিএম জাফর আলম আরাকান সড়কের টেন্ডার কাজ শেষ হয়েছে। কাজও চলছে। কিন্তু নানা জায়গায় প্রতিবন্ধকতার কারণে কাজের ধীরগতি হচ্ছে। এছাড়াও রোহিঙ্গাদের কারণে এই সড়কে যান চলাচল যেহেতু বেড়েছে সেহেতু সড়কে বড় বড় গর্ত পরিণত। যার কারণে মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এই দুর্ভোগ থেকে উত্তরণের জন্য সড়কের যেখানে গর্ত হয়েছে সেখানে আপাতত মেরামত করে দেবার এবং দ্রুত এই সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করার। উল্লেখ্য, কক্সবাজার লিংকরোড থেকে টেকনাফ পর্যন্ত কক্সবাজার-টেকনাফ শহীদ এটিএম জাফর আলম আরাকান সড়কের দৈর্ঘ্য ৭৯ কিলোমিটার।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: