Tuesday, 31 March 2020

পালংখালীতে বন জায়গীরদার ও ভিলেজার পরিচয়ে বাণিজ্য!


নিজস্ব প্রতিবেদক
উখিয়া উপজেলার পালংখালীতে ৭ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন তেলীপাড়া এলাকায় বন বিভাগের জমি দখল করে বন জায়গীরদার ও ভিলেজার পরিচয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এক ব্যক্তি। খেয়াল খুশীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে এখানকার হোস্ট কমিউনিটি ও আশ্রিত রোহিঙ্গারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছে, বনবিভাগের জমি দখল, এনজিও কর্মকর্তাদের থেকে টাকা আদায় ও আরো অনেক অপকর্ম করছে আবদুস সাত্তার নামের এক ব্যক্তি।

তার কারনে ক্যাম্প প্রশাসনে নানাবিধ সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের সহকারী ক্যাম্প ইনচার্জ।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, ইতোপূর্বে বনবিভাগের জমি দখল করে নতুন রোহিঙ্গা বাজার গড়ে তোলার চেষ্টা করে ছাত্তার ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ লক্ষ্যে উখিয়া টিভি রিলে কেন্দ্রের পশ্চিম দিকে ৭ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি ব্লক এলাকায় রাতারাতি দুই ডজনাধিক দোকান নির্মান করে তারা। এসব দোকান ভাড়া দিতে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অগ্রীম সালামিও নেয়।
প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, সপ্তাহখানেক আগে উপরোক্ত এলাকার ঘন জঙ্গল ও গাছপালা কেটে রাতারাতি এসব দোকান নির্মান করা হয়।
আর এসব দোকান ভাড়া দেয়ার জন্য সালামী বাবদ রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ছাত্তার।

৭ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি ব্লক এলাকায় বসবাসরত রোহিঙ্গা নূর কালামের ছেলে মোঃ আয়াছ, আবদুল করিমের ছেলে আবদুল্লাহ, জামাল হোছাইনের ছেলে ইউনুছ, ফয়েজ আহমদের ছেলে ঈসমাইল ও আবদু শুক্কুরের ছেলে নূরুল কালাম প্রমূখ ছাত্তারকে টাকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এসব ছাড়াও মসজিদ ও মক্তব নির্মানের জন্য জায়গা দেয়ার নামেও রোহিঙ্গাদের থেকে দুই লক্ষ টাকা নিয়েছে ছাত্তার। বনবিভাগের আরো জমি জবর দখলে রেখে রোহিঙ্গাদের নিকট ভাড়া দিয়েছে ছাত্তারের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট। এসব জমিতে পানি সেচ দিতে স্হানীয় এক ছাত্তার মিলে উপরোক্ত এলাকার একটি পাহাড়ী ছড়ায় কিছুদিন আগে বাঁধ দেয়। এতে ছড়ার পানি আটকে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সময় এই পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় ৪ জন রোহিঙ্গা শিশু। এদের মধ্য দিল কায়েছ নামে এক আড়াই বছরের একজনের নাম পাওয়া গেছে। নিহত দিল কায়েছ ডি ব্লক এলাকার রোহিঙ্গা হাফিজুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা রহিম উদ্দিন জানান, দোকান ভাড়া দেয়ার কথা বলে ইতোপূর্বে ১২৫ জন রোহিঙ্গা থেকে টাকা নেয় সাত্তার। প্রবাসী রোহিঙ্গাদের পরিবারকে টার্গেট করে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করেন তিনি। কোন এনজিও ৭ নং ক্যাম্প এলাকায় কাজ করতে এলেই ছাত্তারকে টাকা দিতে হয়। অন্যথায় বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন তিনি।
সূত্রে প্রকাশ, পাহাড়ের নীচে একটি খালি জায়গা তার নিজের বলে দাবী করে একটি এনজিওর অফিস করার জন্য ভাড়া দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়। আবার ঐ একই জায়গাটি মসজিদের জন্য দেবে বলে দুই লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় বন বিভাগের জমি দখল করে নির্মিত ছাত্তারের বাড়ী থেকে এসব অপকর্ম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
৭ নাম্বার ক্যাম্পের সহকারী ক্যাম্প ইনচার্জ মোঃ শাহজাহান বলেন, সাত্তারের কারনে ক্যাম্প প্রশাসনে নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এ ব্যাপারে কথা বলতে একাধিকবার ডেকে পাঠালেও ছাত্তার তাতে কর্ণপাত করেনি জানিয়ে সহকারী ক্যাম্প ইনচার্জ আরো বলেন, তার ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত হয়েছে।
কিন্তু অভিযুক্ত সাত্তার নিজকে “বন জায়গীরদার ও ভিলেজার” হিসাবে অখ্যায়িত করে এসব পাহাড় তার নিজের বলে দাবী করেন।

সূত্র সিবিএন

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: