Saturday, 15 February 2020

বায়েজিদে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে পাহাড় কেটে অফিস



আব্দুল করিম চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

চট্রগ্রাম বায়েজিদ-ভাটিয়ারি চারলেন সড়কের পাশে আরেফিন নগর এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে মুক্তিযোদ্ধার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে পাহাড় কাটছে একটি চক্র। স্থানীয়রা বিষয়টি সরকারি জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) জানালে তাৎক্ষণিকভাবে বায়েজিদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে পাহাড় কাটার শ্রমিকরা পালিয়ে যায়। এসময় পুলিশ পাহাড় কাটা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু পুলিশের কোন বিধি-নিষেধ মানেননি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. খোরশেদ আলম। পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর পুনরায় পাহাড় কেটে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ‘এবাদত খানা’ তৈরির চেষ্টা করেন। অথচ এবাদতখানার পনেরো গজ দূরে রয়েছে মসজিদ । যে কারণে দুই পক্ষের লোকজনের মাঝে এলাকা জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।গতকাল শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বায়েজিদ থানার আরেফিন নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানান, খুব সকাল থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের নামে কথিত অফিস তৈরির জন্য পাহাড়ের পাদদেশে থেকে মাটি কাটছিল বেশ কয়েকজন শ্রমিক। বিষয়টি তারা সরকারের জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) জানালে বায়েজিদ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। এসময় মাটি কাটার শ্রমিকরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে পাহাড় কাটা বন্ধ করে দেয় পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর পুনরায় পাহাড় কাটা শুরু করে ওই শ্রমিকরা। এসময় মো. খোরশেদ আলম ছাড়াও নেতৃত্ব দেন মৌলভী মাহবুবুর রহমান ও মো. খোকন নামের দুই ব্যক্তি। তারা বলছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার রয়েছে। প্রশাসনের সকল স্তরে কথা বলেই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি অফিস নির্মাণ করছে তারা।এ প্রসঙ্গে বায়েজিদ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পাহাড় কাটার প্রমাণ পেয়েছি। বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত হওয়ায় আপাতত পাহাড় কাটা বন্ধ করে দিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ নামের এক ব্যক্তি দাবি করছেন, এটা সরকারি পাহাড়। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি অফিস তৈরি করা হবে। তবুও সরকারি পাহাড় কেটে অফিস তৈরি করতে নিষেধ করেছি। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।জানতে চাইলে থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম বলেন, সরকারি পাহাড়। কোন সমস্যা হবে না। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সংগঠনের অফিস তৈরি করা হবে, এবাদতখানাও হবে। প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলেই কাজ শুরু করেছি। পারলে সাহায্য করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, খোরশেদ আলম, শাহাবুদ্দিন, মো. খোকন সরকারি জায়গা বন্দোবস্তি এনে দেয়ার আশ^াস দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠনের ব্যানারে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: