যে কারণে চট্টগ্রামের সড়কে ফিরছে না শৃঙ্খলা
আব্দুল করিম চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে সচেতনতামূলক কর্মশালা, লিফলেট বিতরণসহ নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে এসব কর্মসূচি চলমান দাবি করা হলেও নিয়মিত তদারকির অভাবে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগ ছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়।নগরের ৬৪টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি থাকলেও তা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে অকার্যকর। ফলে মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা হাতে লাঠি ও লেজার লাইট দিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করেন। সিএমপির পক্ষ থেকে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি চালুর উদ্যোগ নেওয়ার পর টাইগারপাস মোড়ে ১১ ডিসেম্বর থেকে চালু করা হয় সেমি ও অটো সেমি ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেম। পর্যায়ক্রমে সব মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি স্থাপন ও কার্যকরের কথা থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই। গণপরিবহন সংকটের মাঝে অধিকাংশ সড়কে সকাল ও সন্ধ্যায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও রুট পারমিট অনুযায়ী চলাচল না করে মাঝপথে যাত্রী নামিয়ে দেয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এছাড়া নগরের প্রতিটি বাস স্টপে যাত্রী ওঠানামার জন্য সাইবোর্ড টাঙিয়ে দিলেও কোনও গণপরিবহন সেখানে যাত্রী ওঠানামা করে না। নির্দিষ্ট স্থানে যাত্রী ওঠানামার জন্য প্রাথমিকভাবে ৬ ও ১০ নম্বর রুটে চালকদের স্বাক্ষর নেওয়ার নিয়ম চালু করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা যায়নি।এদিকে মালামাল ও নানা সরঞ্জাম রেখে নগরের অধিকাংশ সড়ক বেদখলের কারণে যানজটসহ নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক দখলমুক্ত করতে প্রাথমিকভাবে বিমানবন্দর থেকে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু, কোতোয়ালী, নিউমার্কেট, টাইগারপাস, কালুরঘাট, জিইসি মোড় থেকে সিটি গেইট, মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন ৫টি মোড়ে অভিযান চালানো হয়। ৬ জানুয়ারি কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু গোল চত্বর থেকে রাহাত্তারপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে সড়কে মালামাল রাখার দায়ে ২১ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয় ট্রাফিক বিভাগ। এ সময় পাঁচটি রোডে সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশার পার্কিং নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।তবে যত্রতত্র পার্কিং রোধে নগরের ৪ হাজার ৮৪৪টি পার্কিং স্পট চিহ্নিত করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। নিয়মিত তদারকির অভাবে অনেক সড়কে যত্রতত্র পার্কিং ও সড়ক বেদখল হয়ে গেছে। যাত্রী হয়রানি ও চুরি ছিনতাই রোধে ১৩ হাজার সিএনজি অটোরিকশার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৬০০টি সিএনজি অটোরিকশা ও গণপরিবহনের ভেতর চালকের ছবিসহ পরিচিত কার্ড নম্বর ও পরিচিতি ষ্টিকার প্রদর্শনের নিয়ম চালু করলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি।
সংশিষ্টদের মতে, যে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার পর তা নিয়মিত তদারকি করা দরকার। ট্রাফিক আইন মানা ও সড়ক ব্যবহারে চালক, হেলপার, যাত্রী, পথচারীদের সচেতনতা ও ট্রাফিক বিভাগের তদারকি করলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। একটি পদক্ষেপ নেওয়ার পর তা কয়েকদিন তদারকি করা হয়। কিছুদিন পর তা ঝিমিয়ে পড়ার কারণে আবারও আগের অবস্থানে ফিরে আসে সবকিছু।অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এসএম মোস্তাক আহমেদ খান বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য লিফলেট বিতরণ, সচেতনতামূলক কর্মশালাসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। এর মধ্যে অনেকগুলো চলমান আছে। নির্দিষ্ট স্থানে যাত্রী উঠানামা ও রুট পারমিট অনুযায়ী গণপরিবহণ চলাচলে জোর দেওয়া হবে। সেমি অটোমেটিক ও অটোমেটিক ট্রাফিক সিস্টেম টাইগারপাসে চালুর পর আগামী রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে আরও নয়টি স্পটে চালু করা হবে। ধীরে ধীরে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে আশা করি।


0 coment rios: