চট্টগ্রাম মুরাদপুরে খোলা ড্রেন যখন আবর্জনার ভাগাড়
আব্দুল করিম চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর এলাকায় ফ্লাইওভারের নিচে রাস্তার পাশে বড় ড্রেনের ভাঙা অংশে ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ হচ্ছে না। ফলে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে ড্রেনটি। এতে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। আটকে থাকা দূষিত পানির পচা গন্ধে পরিবেশের বারোটা বাজছে। এছাড়া মারাত্মকভাবে বেড়েছে মশার উপদ্রব। সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে। ড্রেনে ময়লা আবর্জনার জমাট বাঁধা স্তূপে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এতে আটকে থাকা পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এছাড়া ড্রেনের পাশে ভবন নির্মাণ কাজ চলার কারণে ইট, কংক্রিট, বালি পড়ে ড্রেনের কিছু অংশ ভরাট হয়ে গেছে।
নজরুল ইসলাম নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, ড্রেনটি খোলা রাখার কারণে এখানকার লোকজন ইচ্ছেমতো ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। এসব আবর্জনা পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে হয়। ড্রেনটি খোলা রাখার কারণে এটি বিপদজনক ড্রেনে পরিণত হয়েছে। এতে যে কোনও সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির সময় তো অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নালার পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টির পানি আর রাস্তার পানি মিলে একাকার হয়ে যায়। তখন নালার সব ময়লা রাস্তায় চলে আসে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনেরও কোনও নজরদারি নেই। যদি নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার করা হতো তবে, এ সমস্যা থাকতো না।আরাফাত হোসাইন নামে এক পথচারী ড্রেনের এমন অবস্থা দেখে বলেন, মুরাদপুরে বড় ড্রেনের উপরের অংশটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে ময়লা আবর্জনায় ভরা। বাসা-বাড়ির ময়লা আবর্জনাসহ পলিথিন দেখা যাচ্ছে। যার কারণে সঠিকভাবে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। আটকে থাকা পানি দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এসব কারণে এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে।তিনি আরও বলেন, এ নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তেমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ দেখি না। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা নালা বা ড্রেন নিয়ে যথাসময়ে ভূমিকা না রাখার কারণে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবারক আলী বলেন, স্থানীয় এবং দোকানদারদের বারবার নিষেধ করার পরও তারা অনায়াসে ময়লা ফেলছেই। এজন্য আমরা অনেকবার ব্যানার, ফেস্টুনে প্রচারণা চালিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারপরও ময়লা ফেলা বন্ধ হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে ড্রেনটির কাজ শুরু হয়েছে। ড্রেনটি বড় করে ২২ ফুট করা হচ্ছে। এরপর হয়তো আর সমস্যা হবেনা। নালার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে পানি দূষণ এবং জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শৈবাল দাশ সুমন বলেন, আসলে আমরা যতই কাজ করি না কেন এলাকাবাসী সচেতন না হলে সুফল পাওয়া যাবে না। আমাদের ডোর টু ডোর প্রকল্পে ১৯ শত শ্রমিক কাজ করছে। তারপরও মানুষ যেখানে সেখানে ময়লা ফেলছে। যে কোনও সমস্যা সমাধানে জনসচেতনতার বিকল্প নেই।নালার উপর ঢাকনা না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নালায় ঢাকনা না থাকা বিপদজনক। তবে বড় নালা ফুটপাতের নিচেই থাকে। তাছাড়া নগরীতে বড় বড় ড্রেনের টেন্ডার সিডিএর হাতে চলে গেছে। আমরা শুধু ছোটখাটো ড্রেনের কাজগুলো করি।


0 coment rios: