চট্টগ্রাম নগর জুড়ে যাত্রী ছাউনির নামে দোকানপাটের রমরমা ব্যবসা
আব্দুল করিম চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম নগরে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের নামে চলছে ফুটপাত দখলের আয়োজন। নগরের অধিকাংশ সড়কের ফুটপাতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য যাত্রী ছাউনি। আবার এসব ছাউনিতে দোকান নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে খোদ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।
অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ যাত্রী ছাউনি কাম দোকান গড়ে উঠেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনের সড়কে কিংবা কাছাকাছি এলাকায়। যেখানে হাতে বাড়ালেই তামাকজাত পণ্য কিনতে পাওয়া যায়। ফলে ধুমপানে আগ্রহ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের। এতে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের আড্ডা ও ইভটিজিংয়ের প্রবণতাও বাড়ছে।
চসিক সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন নির্বাচিত হওয়ার পর শহরকে ক্লিন সিটি ও গ্রিন সিটি রূপান্তর করতে নানা আয়োজন ও উদ্যোগ নেওয়া হয়। বেশিরভাগ সড়ককে সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়ন করেছে চসিক। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সড়কের সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন করার লক্ষে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতায় নগরে প্রায় ৫০টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণের চুক্তি হয়। এতে প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানায় দুটি করে যাত্রী ছাউনি করার অনুমোদন দেয় চসিক। সামান্য কর ধার্য করে ৫ বছর চুক্তিতে এসব যাত্রী ছাউনিগুলো ইজারা দেওয়া হচ্ছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পতেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে যাত্রী ছাউনি, নেভি হাসপাতাল, ফ্রি পোর্ট, সল্টগোলা মোড়, সল্টগোলা পুলিশবক্স, আগ্রাবাদ, দেওয়ানহাট মিস্ত্রিপাড়া মোড়, জিইসি মোড়, জামাল খান, বহদ্দারহাট, চকবাজার, পাঁচলাইশসহ নগরে অধিকাংশ এলাকায় যাত্রী ছাউনি করা হয়েছে। এর বেশিরভাগ যাত্রী ছাউনিতে নির্মিত হয়েছে কুলিং কর্নার।
এছাড়া যাত্রী ছাউনিগুলো গড়ে উঠেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে। শুধু তাই নয়, বেশিরভাগ কুলিং কর্নারে প্রকাশ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এসব তামাকপণ্য কিশোর শিক্ষার্থীদের হাতের নাগালে থাকায় ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আড্ডা ও ধুমপান করতেও দেখা যায় স্কুল শিক্ষার্থীদের।সূত্র জানিয়েছে, ফুটপাতের উপর গড়ে উঠা এসব যাত্রী ছাউনি কাম কুলিং কর্নারে সবসময় লোকজনের ভিড় থাকে। ফলে ফুটপাতের চলা ফেরায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।চট্রগ্রাম নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন শিক্ষক জানান, সৌন্দর্যবর্ধনে নির্মিত যাত্রী ছাউনিগুলোর বেশিরভাগ করা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে। এতে সেখানে বহিরাগতদের আড্ডা যেমন বাড়ছে, কিশোর শিক্ষার্থীদের মাদকে আসক্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। পাশাপাশি বাড়ছে মেয়েদের ইভটিজিংয়ের প্রবণতা।
এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ হালিশহর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে তামাকজাত দ্রব্য বেচাকেনা মোটেই কাম্য নয়। এসব যাত্রী ছাউনিতে তামাকজাত পণ্য বেচাকেনা বন্ধ করা জরুরি। এতে ছাত্রদের ধুমপানে আসক্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম বলেন, আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতায় নগরে ফুটপাতে ৩৬টি সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়। কয়েকটি ছাড়া অধিকাংশ যাত্রী ছাউনির কাজ শেষ। এসব যাত্রী ছাউনি সামান্য কর পরিশোধের মাধ্যমে ৫ বছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।তিনি বলেন, কেউ যদি যাত্রী ছাউনীর স্টলগুলোতে তামাকজাত দ্রব্য বেচাকেনা করে অন্যায়। শিগগিরই ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে এসব দোকান উচ্ছেদ করা হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তামাকমুক্ত নান্দনিক নগরী গড়ার প্রত্যয়ে স্কুল-কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ গজের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বেচাকেনা বন্ধের নির্দেশনা জারি করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এ সময় গত ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্দেশনা কার্যকর করতে সময় বেঁধে দেওয়া হলেও। কিন্তু এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।


0 coment rios: