Friday, 13 December 2019

চসিক মেয়রের নির্দেশে চট্রগ্রাম বধ্যভূমি পরিস্কার করলো সিভাসু ছাত্রলীগ



আব্দুল করিম চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি


 চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের নির্দেশে পাহাড়তলী বধ্যভূমি পরিস্কার করেছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
শাখা ছাত্রলীগ নেতা ডা. হামীম মল্লিক ও শফিক আনানের নের্তৃত্ব বধ্যভূমি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচী পালন করে তারা। এ বিষয়ে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ছাত্রলীগ নেতা শফিক আনাম বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মর্মন্তুদ স্মৃতি বহন করা পাহাড়তলী বধ্যভূমি দেশের আলোচিত এবং অন্যতম বৃহৎ একটি বধ্যভূমি।পাঁচ হাজারের বেশি লোককে পাহাড়তলী বধ্যভূমিতে হত্যা করা হয়। ওই সময় এই স্থানটির পরিচিতি ছিল জল্লাদখানা নামে। ১৯৭১ সালের ১০ নভেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল ফাতেমীর নেতৃত্বে এবং আলী আকবর নামে এক রাজাকার ও তার সাঙ্গপাঙ্গ, পাকিস্তানি মিলিটারি ও বিহারিরা একত্র হয়ে পাহাড়তলী বধ্যভূমিতে এই গণহত্যা চালায়। স্বাধীনতার এতো বছর পরও মুক্তিযুদ্ধের মর্মন্তুদ স্মৃতি বহন করা পাহাড়তলী বধ্যভূমি পড়ে থাকে অযত্ন ও অবহেলায়। শিক্ষা-শান্তি-প্রগতি ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দীক্ষিত চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ বরাবরের মতোই জননেতা আজম নাছির উদ্দিন ভাইয়ের নির্দেশে এই বধ্যভূমিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার দায়িত্বটা পালন করেছে। এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৪ই ডিসেম্বর এক কালোঅধ্যায়।
এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোহিতায় বাঙালি জাগরণের সূর্য -সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। ১৯৭১ এর ডিসেম্বর মাসে স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তান বাহিনী যখন বুঝতে শুরু করে যে তাদের পক্ষে যুদ্ধে জেতা আর কোনো ভাবেই সম্ভব নয়, তখন তারা বাঙালি জাতিকে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে দূর্বল এবং পঙ্গু করে দেয়ার জন্য পরিকল্পনা করতে থাকে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানী বাহিনী তাদের দেশীয় দোসরদের সঙ্গে নিয়ে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নিজ নিজ বাড়ি হতে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে। প্রতি বছর বাঙালি জাতি ১৪ই ডিসেম্বর পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। রাত পেরোলেই শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, তাই ১৩ই ডিসেম্বর সকাল ১০ ঘটিকায় চসিক মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের উদ্যাগে ধূলা ময়লায় মলিন চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত বধ্যভূমি ধুয়ে মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। এই পরিষ্কার -পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে আরো উপস্থিত ছিলেন ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মেধাবী ছাত্রনেতা ডা. তামিম মাহমুদ, তাপস দে, মাকসুদুর রহমান, ওবায়েদ উল্লাহ, মোহাম্মদ বিন শাহজাহান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জুবায়ের শাওন, মঞ্জুরুল ইসলাম, আবদুল্লাহ শামীম, ফারহান ফুয়াদ, অঙ্কন নাথ, শৈশব পাল, হৃদয় ধরসহ প্রমুখ।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: