Wednesday, 4 September 2019

রামুর গর্জনিয়া চৌদ্দ বছরের কিশোরীর সাথে তিন সন্তানের জনকের গোপনে বাল্য বিয়ের ঘটনা ঘটেছে।

জার্নাল ডেস্কঃ

রামুর দূর্গম জনপদের গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝির কাটা ( ৬ নং ওয়ার্ড) বেলতলি এলাকায়।অনুসন্ধানে জানা যায়,বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের ২৭৯ নং বাকঁখালী মৌজার চিকনছড়ি এলাকার আবদুল মালেক ও সাজেদা বেগমের দ্বিতীয় কণ্যা মিনারা বেগম ( ১৪)।সে ২০১৭ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে।মিনারা বেগম এলাকার ছাগলখাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রী। মিনারা বেগমের জম্ম তারিখ ১০ আগস্ট ২০০৫ সাল।
ছাগলখাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুল আলম জানান,মিনারা বেগম স্হানীয় আবদুল মালেকের দ্বিতীয় কণ্যা। ২০১৭ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রাপ্ত ফলাফল ২.৯২। মিনারা বেগমের রোল নম্বর ম- ১৫৪০ আইডি নং ১১২০১৭৪১৫০৬০১৫৪০।
চিকনছড়ি এলাকার গণেশ সরকার জানান,মেয়েটি লেখাপড়ায় মনোযোগী ছিল।পিইসি পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফল ও ছিল সন্তোষজনক। মিনারা বেগমের সহপাঠীরা এখন  বই-খাতা কলম নিয়ে পাঠশালায় গেলে ও মিনারা এখন সংসার নামক বৃত্তে বন্দি হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরছে।এলাকায় অনুসন্ধানে গিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন মুরব্বি জানান,৫ ম শ্রেণীতে লেখাপড়া কালীন অবুঝ কিশোরী মিনারার সাথে স্কুলে যাতায়াত কালে ইভটিজিং করতো কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের থিমছড়ি এলাকার আবুল হোসেন পূত্র সৈয়দ মিস্ত্রি। এ নিয়ে বেশ কয়েক দফা শালিশী বৈঠক ও বসে।কিন্তু কিশোরী মিনারা বেগমের পিছু ছাড়তে নারাজ লম্পট সৈয়দ মিস্ত্রি। তখন সৈয়দ মিস্ত্রি বিবাহিত। এখন ৩ সন্তানের জনক।তামাক চাষে লোকসান দিয়ে চোখে ভূত দেখছেন তখন লাখ টাকা ধার মিনারা বেগমের বাবা আবদুল মালেক কে ধার দেন সৈয়দ মিস্ত্রি। তখন মিনারা বেগমের পিতা আবদুল মালেকের সাথে সম্পর্কের উন্নতি ঘটায়  বাড়িতে ঘনঘন যাতায়াত বাড়িয়ে দেন লম্পট সৈয়দ মিস্ত্রি। সম্প্রতি সৈয়দ মিস্ত্রি  মিনারা বেগমের পিতা আবদুল মালেক কে পাওনা টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
এ নিয়ে এলাকার বেশ কয়েক জনের সাথে আলোচনা ও করেছে কিশোরী মিনারা বেগমের পিতা আবদুল মালেক।
নির্ভর যোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, পাওনা টাকার পরিবর্তে কিশোরী কন্যা মিনারা বেগম কে সৈয়দ মিস্ত্রির সাথে বিয়ে দিলে কেবল পাওনা টাকা আর দিতে হবে না মর্মে মিনারা বেগমের পিতা আবদুল মালেকের সাথে বায়না ধরেন লম্পট সৈয়দ মিস্ত্রি। কোন উপায় না দেখে কিশোরী কন্যা মিনারা বেগম  কে সৈয়দ মিস্ত্রির হাতে তুলে দেন মিনারা বেগমের পরিবার।
কিশোরী কন্যা মিনারা বেগমের বাল্য বিয়ে নিয়ে এ প্রতিবেদক যখন পিতা আবদুল মালেকের সাথে কথা বলেন,তখন বিভিন্ন অভাব অনুযোগের সুযোগে অসহায়ত্বের সুযোগে এই বাল্য বিয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে অকপটে স্বীকার করেন।
গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার আবদুল মালেক জানান, সৈয়দ মিস্ত্রি মূলত একজন চরিত্রহীন প্রকৃতির লোক।সৈয়দ মিস্ত্রির পিতার নাম আবুল হোসেন।সৈয়দ মিস্ত্রি অতীতে এলাকায় বারে বারে কূকর্ম করায় পারিবারিক ভাবে কাউয়ারখোপ এলাকা থেকে বিয়ে করান সৈয়দ মিস্ত্রি কে।সেই ঘরে দুই কন্যা ও এক ছেলে সহ ৩ সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি গোপনে মিনারা বেগম নামের কিশোরী কে বিয়ে করার খবর পেয়ে সৈয়দ মিস্ত্রির প্রথম স্ত্রী গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।বিচারে প্রথমে হাজির হলে ও পরে গ্রাম আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। এখন সৈয়দ মিস্ত্রি দ্বিতীয় স্ত্রী (কিশোরী মিনারা বেগম) কে নিয়ে গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মাঝির কাটার বেলতলী গ্রামে সরকারী খাস জমি জবরদখল করে সেখানে ঝুপড়ি ঘর করে সংসার করছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা জানান, বাল্য বিয়ে যেখানে হবে সেখানে অভিযান চালিয়ে আইনের আওতায় আনা হবে।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: