চোর মালিঙ্গার সেই বড় ভাই গ্রেফতার
আব্দুল করিম চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ-
চট্টগ্রামের বাকলিয়া থেকে চোর মালিঙ্গার সেই ‘বড়ভাই’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতের নাম মো. সোহেল প্রকাশ সেলু (৩১)। বুধবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে বগারবিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহেল নিজেকে শ্রমিক লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে গত ৬ বছর ধরে নগরে চোরের একটি চক্র পরিচালনা করে আসছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন।
গ্রেপ্তার সোহেল কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর ধন্যারপাড়ের মৃত মোহন মাঝির ছেলে এবং বাকলিয়া থানার শান্তিনগর বগারবিলে ইসলাম ভিলায় থাকতেন।
ওসি মহসীন বলেন, ‘গত ২১ আগস্ট চুরির ঘটনায় মালিঙ্গা নামের এক পেশাদার চোরকে গ্রেপ্তার করি। তাকে আমরা রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে তাদের বড়ভাই হিসেবে সোহেলের তথ্য উঠে আসে। তার জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রে আমরা সোহেলকে গ্রেপ্তার করি।
সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চকবাজার-বাকলিয়া এলাকায় প্রভাবশালী বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে শেল্টার দেয় । আমরা এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছি।
ওসি আরও বলেন, ‘সোহেলের ছত্রছায়ায় ৮ থেকে ১০ জন কিশোর ও তরুণের একটি চক্র নগরের বিভিন্ন এলাকায় চুরি করে। তারা চুরি করে চোরাই মালামাল সোহেলকে দিত। সোহেল সেগুলো বিক্রি করতো। সোহেল এই ছেলেগুলোকে নিয়মিত ইয়াবা সেবনের টাকা দেয়। ইয়াবা খাইয়ে তাদের দিয়ে চুরি করায়।
সোহেলের কাছ থেকে ল্যাপটপ, স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন চোরাই মালামাল এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি মহসীন।
কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘গত ১৯ জুন নগরীর সার্সন রোডে জনৈক এঞ্জেলিনা গোমেজের বাসায়, ৯ আগস্ট চট্টেশ্বরী মোড়ে জনৈক আব্দুল হামিদ সওদাগরের বাসায়, ৯ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে কাজির দেউড়ির সানমার এলিভেরা বিল্ডিংয়ে জনৈক মো. আব্দুল্লাহর বাসায়, ১৬ আগস্ট সিরাজউদ্দৌলা রোডে জনৈক রুহুল আমীনের বাসায় চুরি হয়। এসব চুরির সোহেলের চোর দলের সদস্যদের মাধ্যমে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আনোয়ার মালিঙ্গা, মাসুদ আলি, শাকিল প্রকাশ রেন্ডি, হৃদয়সহ কমপক্ষে ১০ জন শিশু-কিশোর আছে, যারা কুড়িয়ে পাওয়া পরিত্যক্ত জিনিস সোহেলের দোকানে বিক্রি করে। সোহেল নিজেই ফুসলিয়ে এসব শিশু-কিশোরকে চোর বানিয়েছে। সোহেল তাদের টাকা দেয়, সেই টাকা দিয়ে তারা ইয়াবা সেবন করে। কখনো কারও হাতে টাকা না থাকলে সোহেল তাকে টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে। পরে তারা যখন চুরির মালামাল বিক্রি করতে আসে, তখন সেখান থেকে টাকা কেটে নেয়। গত ৬ বছর ধরে সোহেল এভাবে নগরীর বিভিন্নস্থানে চুরি সংঘটিত করে আসছে।
চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক কামরুজ্জামান।
জানা গেছে, সোহেল মূলত চোরাই মালামাল কেনে এবং বিক্রি করে। শ্রমিক লীগের পরিচয়ের পাশাপাশি চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে করে।


0 coment rios: