সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিদেশি কিছু এনজিও মিয়ানমারের পক্ষ হয়ে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।’ আজ বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।বিএনপি, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে রোহিঙ্গা ইস্যুকে সর্বশেষ রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্রমেই তারা আপন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে, ক্রমেই তারা জনবিচ্ছিন্ন হচ্ছে। সে কারণে রাজনীতিতে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেওয়া ছাড়া আর অন্য কোনো পথ এখন আর খোলা নেই।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একেকবার একেক ইস্যু। নির্বাচনে ব্যর্থ, আন্দোলনে ব্যর্থ, কোটা আন্দোলনের ওপর ভর, সেখানেও ব্যর্থ, স্কুলের ছেলেমেয়েদের নিরাপদ আন্দোলনের ওপর ভর করা, সেখানেও ব্যর্থ। একেকটা ইস্যু খুঁজে বেড়াচ্ছে বিএনপি। অবশেষে রোহিঙ্গা ইস্যুর ওপর তারা ভর করেছে। স্বাভাবিক রাজনীতি যারা করতে ব্যর্থ, নেতিবাচক রাজনীতি করতে করতে যারা বারেবারে ব্যর্থ হয়েছে, জনসমর্থন আদায়ে ব্যর্থ। দেড় বছর বেগম জিয়া কারাগারে, দেড় মিনিটের জন্য এ বিএনপি একটা আন্দোলন করতে পারেনি, এখন তারা ষড়যন্ত্র পথ বেছে নিয়েছে। সর্বশেষ আমরা দেখছি রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা তাদের সর্বশেষ রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে সরকারকে বেকায়দায় ফালানোর জন্য।’
কূটনৈতিকদের সঙ্গে বিএনপির নেতাদের বৈঠক প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কূটনৈতিকদের সাথে বৈঠক করবেন, এই কূটনীতিকরা তাদের দেশ, আন্তর্জাতিকভাবে এই সরকারের উদারতাবাদের প্রশংসা করছে। মানবতাবাদী শেখ হাসিনার যে রিফিউজি আলিঙ্গন তিনি করে ছিলেন সীমান্ত খুলে দিয়ে, বিশ্বের কোনো দেশ কোনো রিফিউজি সমস্যা যখন এ ভাবে আশ্রয় দিয়েছে, বিশ্বের কোথাও পাবেন না। তাই আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত শেখ হাসিনার রোহিঙ্গানীতি। এখন রোহিঙ্গাদের নিয়ে নানান খেলা খেলছে। পরোক্ষভাবে বিদেশি কিছু এনজিও ষড়যন্ত্র করছে। মিয়ানমারকে সহযোগিতা করছে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কোনো কোনো বিদেশি এনজিও পাকিস্তানপন্থীও আছে, এরা একদিকে বঙ্গবন্ধুর দুই খুনিকে পাকিস্তানে আটকে রেখেছে, আমাদের পাওনা আমাদের বুঝিয়ে দেন। পদে পদে আমাদের বিপদে ফেলতে চান। খুনিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলছে আমেরিকা, কানাডা থেকে। কিন্তু পাকিস্তানে যে দুই খুনি আছে, তাদের কাজসহ দিয়েছে পাকিস্তান। আমি জানি না এই পরিস্থিতি কবে পরিবর্তন হবে। আজ অনেকেই বলছে, জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দশম জাতীয় নির্বাচন আপনারা বর্জন করেছেন। জনগণ আপনাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচনে আপনারা আসেননি এটা কি আমাদের দোষ?’
বিএনপির উদ্দেশে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রাজনীতিতে আপনারা বেপরোয়া হয়ে যান, পথহারা পথিকের মতো দিশেহারা হয়ে যান আপন বিশ্বাসঘাতকতায়, আপন বলির শৃঙ্খলের কাছে বাধা পেয়ে যান। সেজন্য আপনাদের মুখ দিয়ে দায় এড়ানোর যেসব বক্তব্য আসে ইতিহাসের আদালতে প্রমাণ হয়ে গেছে। প্রচলিত আদালতে প্রমাণ হয়ে গেছে, জনতার আদালতে প্রমাণ হয়ে গেছে ২১ আগস্ট, ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড আপনারা, আপনাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা।’
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি জড়িত না থাকেন, তাহলে এফবিআইকে কেন তদন্ত করতে দেন নাই? আপনারা যদি জড়িত না থাকেন তাহলে জজ মিয়ার নাটক কেন সাজালেন? এসব প্রশ্নের জবাব দেবেন কি? মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপনি কি দেবেন এসব প্রশ্নের জবাব ?’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বিএমএর মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান, স্বাচিপ মহাসচিব অধ্যাপক ডা এম এ আজিজ।
.jpg)


0 coment rios: